শান্তির শ্রেণিবিভাগ (Typologies of Peace) – Study Material

শান্তির জন্য পাঁচটি পর্যায়ের কথা বলা হয়েছে। যথা-

  1. ব্যক্তি পর্যায়ে শান্তি
  2. জাতি পর্যায়ে শান্তি
  3. গোষ্ঠী পর্যায়ে শান্তি
  4. আর্ন্তজাতিক পর্যায় শান্তি
  5. বিশ্বরাষ্ট্র পর্যায়ে শান্তি

এখম তিনটি পর্যায়কে তেমন গুরুত্ব না দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক ও বিশ্ব রাষ্ট্র শান্তিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ব্যাক্তি পর্যায়ে শান্তি

ব্যক্তি থেকেই সমাজের সৃষ্টি তাই ব্যক্তি থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা গেলে কেবল সমষ্টিগত শান্তির কথা কল্পনা করা যায়। এদিকে লক্ষ্য রেখেই তাত্ত্বিকেরা মনে করেন, প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সর্বপ্রথম মানব মনের মধ্যে শান্তির বীজ বপন করতে হবে।

তাছাড়া, মানুষের অনুভূতি, কামনা-বাসনা প্রভৃতির সুবিন্যাসের উপরই শান্তি নির্ভর করে। যদি ব্যক্তি মানুষ নিজের এবং অপরের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় তবেই কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তবে এই শান্তির ধারণা তাত্ত্বিক পর্যায়ে তেমন পুরুত্বপূর্ণ নয়।

জাতি পর্যায়ে শান্তি

রাষ্ট্রব্যবস্থা বর্তমান সভ্যতার অপরিহার্য বাস্তবতা। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই অপরাপর রাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে সম্পর্কযুক্ত। কেফালে রাষ্ট্র যদি তার আভ্যন্তরীণ সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সুচারুরূপে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়, অর্থাৎ, রাষ্ট্রের নিকট তাদের চাওয়া-পাওয়া এবং রাষ্ট্রের নিকট থেকে চাওয়া-পাওয়া যদি এক বিন্দুতে মিলে যায় তাহলে ওই রাষ্ট্রে শান্তি বিরাজ করছে বলা যায়। আর এভাবে পৃথিবীর সকল জাতি-রাষ্ট্রে যদি শান্তি স্থাপিত হয়, তাহলে বিশ্বের থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হবে। সুতরাং, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রীয় শান্তি প্রতিষ্ঠা জরুরী।

গোষ্ঠী পর্যায়ে শান্তি

কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তি পারস্পরিক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে। বস্তুতঃ পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতা, শান্তি ও নিরাপত্তা সম্পর্কেও এরা আবদ্ধ। আর এভাবেই যদি সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিদ্যমান থাকে, তবে ধীরে ধীরে ওই সমাজ ও রাষ্ট্র-ব্যবস্থাতেও শান্তি স্থাপিত হবে। তবে গোষ্ঠী পর্যায়ে শান্তি স্থাপনের প্রধান শর্ত হল সুবিচার ও ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করা।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি

আন্তর্জাতিক রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে আজ দিকে দিকে কেবল যুদ্ধ আর অশান্তি। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি-প্রতিষ্ঠা করতে হলে কয়েকটি দিকের উপর গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েকটি দিকের ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার –

  1. ক্ষমতার বণ্টন
  2. সংখ্যার বিভিন্ন সংগঠন
  3. ব্যক্তিগত আনুগত্য
  4. সমরূপতার মাত্রা
  5. আন্তর্জাতিক স্তরবিন্যাস
  6. পারস্পরিক নির্ভরশীলতা
  7. কার্যগত সহযোগীতা

বিশ্ব-রাষ্ট্র পর্যায়ে শান্তি

বিশ্বের সকল রাষ্ট্রে যখন শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে, অর্থাৎ, প্রতিটি রাষ্ট্রে শান্তির আবহ থাকবে কেবল তখনই বিশ্বরাষ্ট্র পর্যায়ে তথা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং, এখানে বিশ্বের সমস্ত রাষ্ট্রের সমন্বয়ে বিশ্ব-শান্তি ব্যবস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হবে। বস্তুতপক্ষে জাতি-রাষ্ট্রগুলি যখন বাস্তব নিরাপত্তা এবং নীতি অনুযায়ী চলবে তখন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে জাতি হিসেবে থাকবে। রাষ্ট্রগুলি মিলে একটি যুক্ত-রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মতো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, ব্যক্তিগত জীবন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত সকল পর্যায়ে শান্তি সবারই একান্ত কাম্য। জীবনের সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, সমাজ ও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক এটাই মানবসভ্যতা তথা মনুষ্যজাতি চায়। কেননা, বিশ্ব-শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষে মানুষে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

Leave a comment